নিউজ ডেস্ক, স্যাট নিউজ, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ :
মিছিল, হোর্ডিং বা টেলিভিশন- এক সময় প্রধানত এই তিনটি মাধ্যমই ছিল রাজনৈতিক দলগুলির ভোট-প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার। তবে গত কয়েক দশকে সেই ছবিটা বদলেছে। সোশ্যাল মিডিয়াকেও নির্বাচনী প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে প্রায় সব দল। সেই খাতে খরচের পরিমাণও সামনে এসেছে।
পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল এবং অসমে চলমান নির্বাচনের জন্য কোন রাজনৈতিক দল ডিজিটাল প্রচারের জন্য কত টাকা খরচ করেছে দেখে নেওয়া যাক।
গুগলের Ads Transparency Centre এবং মেটার Ad Library-র তথ্য অনুযায়ী, ২৫ জানুয়ারি থেকে ২৪ এপ্রিলের মধ্যে এই চার রাজ্যে ৪০ কোটিরও বেশি টাকা ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে খরচ করেছে বিজেপি। তারাই সবথেকে বেশি টাকা ব্যয় করেছে। দলটি প্রায় ৫০ হাজার বিজ্ঞাপন দিয়েছে। যার বেশিরভাগই পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে লক্ষ্য করে। এরপর রয়েছে অসম।
অন্যদিকে, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এই সময়ে ৫ কোটিরও কম খরচ করেছে। কেরল ও অসমে মেটা প্ল্যাটফর্মে তাদের উপস্থিতি চোখে পড়লেও গুগলে খরচ করেছে খুবই কম। পশ্চিমবঙ্গে তারা কোনও বিজ্ঞাপন দেয়নি। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় ১.৮ কোটি টাকা শুধু মেটাতেই খরচ করেছে। গুগলে তাদের কোনও উল্লেখযোগ্য খরচ দেখা যায়নি। তামিলনাড়ুতে DMK এবং AIADMK যথাক্রমে প্রায় ০.৯ কোটি ও ০.৭ কোটি টাকা মেটায় খরচ করেছে।
ডিজিটাল প্রচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল- বিজ্ঞাপনগুলি কে দিচ্ছে? বিজেপি মূলত তাদের নিজস্ব অফিসিয়াল পেজ ও রাজ্য পেজের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন চালায়। ফলে প্রচারের বড় অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। অন্যদিকে, তৃণমূল, ডিএমকে বা এআইএডিএমকের মতো দলগুলি নিজেদের অফিসিয়াল পেজের পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষ বা সমর্থক পেজের উপর বেশি নির্ভর করে।
সোশ্যাল মিডিয়া এখন নির্বাচনী প্রচারের বড় অংশ হয়ে উঠলেও ডিজিটাল খরচের হিসাব রাখার ব্যবস্থা এখনও সীমিত। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, অনলাইন প্রচারের খরচ প্রকাশ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
Association for Democratic Reforms জানিয়েছে, মেটা বা গুগলের মতো প্ল্যাটফর্মে খরচের কোনও মানসম্মত রিপোর্টিং ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে তৃতীয় পক্ষের পেজগুলির খরচ অনেক সময় সরকারি হিসাবের বাইরে থেকে যায়। ফলে প্রকৃত ডিজিটাল প্রচারের পরিমাণ আসল তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।