সিকিম সফরে মোদি: রোডশো থেকে সমাপনী অনুষ্ঠান—রাজ্যে উন্নয়নের জোয়ার
স্যাট নিউজ, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী মোদির দুই দিনের সফরকে ঘিরে উৎসবের আবহে ভাসছে গ্যাংটক। সোমবার সিকিমের রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর এক বিশাল রোডশো ঘিরে রাজ্যজুড়ে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস। সিকিমের রাজত্বের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বছরব্যাপী চলা উদযাপনের সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই তাঁর এই সফর। সোমবার দুপুরে গ্যাংটকের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে প্রধানমন্ত্রীর অভ্যর্থনা জানান। ঐতিহ্যবাহী পোশাক, জাতীয় পতাকা এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে রাস্তাঘাট যেন এক উৎসবমুখর চেহারা নেয়। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নিরাপত্তার কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাসে কোনো ভাটা পড়েনি। শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সের মানুষই প্রধানমন্ত্রীর এক ঝলক দেখার জন্য রাস্তায় নেমে আসেন। এই সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল সিকিমের স্বর্ণজয়ন্তী উদযাপনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি অনুষ্ঠান, যা মঙ্গলবার পালজোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে । এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন, শিলান্যাস এবং সূচনা করবেন। এই প্রকল্পগুলি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিকাঠামো ও সংযোগ ব্যবস্থার মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিস্তৃত। স্বাস্থ্য খাতে বড় উদ্যোগ হিসেবে নামচিতে একটি ১০০ শয্যার আয়ুর্বেদ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি, দেউরালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি সিকিম ক্যাম্পাসে ৩০ শয্যার সমন্বিত সোয়া রিগ্পা হাসপাতালের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এই উদ্যোগগুলি সিকিমের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শিক্ষা ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন হবে। সিকিম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু ইউনিভার্সিটি অফ এক্সেলেন্স এর প্রশাসনিক ভবন এবং নতুন মেডিক্যাল ও পেশাদার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনের মাধ্যমে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সড়ক সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের মাধ্যমে জেলার সঙ্গে জেলার সংযোগ আরও মজবুত হবে। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াত সহজতর করতে এই প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে প্রশাসনের দাবি। মঙ্গলবার মূল অনুষ্ঠানের আগে প্রধানমন্ত্রী গ্যাংটকের নিকটবর্তী “স্বর্ণজয়ন্তী মৈত্রী মঞ্জরী পার্ক”—একটি আধুনিক অর্কিড অভিজ্ঞতা কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। এই কেন্দ্রটি সিকিমের সমৃদ্ধ অর্কিড বৈচিত্র্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছে এবং পর্যটনের ক্ষেত্রেও এটি নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সিকিমের রাজত্বের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের মে মাসে। সেই সময় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও খারাপ আবহাওয়ার কারণে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্য রেখেছিলেন। এবার সমাপনী অনুষ্ঠানে তাঁর সরাসরি উপস্থিতি রাজ্যবাসীর কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে উন্নয়নের প্রতি কেন্দ্র সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি পর্যটন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সিকিমকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।সব মিলিয়ে, সিকিমের স্বর্ণজয়ন্তী উদযাপনের এই সমাপনী অনুষ্ঠান এবং প্রধানমন্ত্রীর সফর রাজ্যবাসীর কাছে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। উৎসবমুখর পরিবেশ, উন্নয়নের বার্তা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মিলনে গ্যাংটক যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।